আল্লাহ, নবী-রাসুল, ফেরেশতা, মানুষ এবং সারা জাহান এবং অন্যান্য গুরুত্বপুর্ন বিষয়ে আলোচনা এবং গবেষনা।


নাস্তিক-মুরতাদ এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের হত্যা করার অধিকার জংগিদের কে দিল?


জংগিরা সুযোগ পেলে শুধু নাস্তিক-মুরতাদদেরকেই  হত্যা করছে না বরং ভিন্ন মতাবলম্বী শান্তিকামী মুসলমানকেও ওরা বিভৎসভাবে হত্যা করছে। কেও যদি শুধু “লা ইলাহা ইল্লল্লাহ” বিশ্বাস করে তাকেই মুসলমান বলে আমাদের অবশ্যই গন্য করতে হবে সে নামাজ পড়ুক বা না পড়ুক, রোজা রাখুক বা না রাখুক ইত্যাদি।  রাসুল সাঃ দৃড়ভাবে বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুস্টির উদ্দেশ্যে “লা ইলাহা ইল্লল্লাহ” বলল, আল্লাহ তার জন্য দোযখের আগুন হারাম করে দিলেন [বুখারী এবং মুসলিম]। অনুরুপ আরো অনেক সহিহ হাদিস রয়েছে এ ব্যাপারে।

উক্ত হাদিসগুলো পবিত্র কুরআনের সাথেও সম্পুর্ন সামঞ্জস্যপুর্ন। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে অগনিতবার ঘোষনা করেছেন,

[2সূরা আল্ বাকারাহ্ 25] আর হে নবী, যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজসমূহ করেছে, তুমি তাদেরকে এমন বেহেশতের সুসংবাদ দাও, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহমান থাকবে।…

[2সূরা আল্ বাকারাহ্ 82] যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে।

[4সূরা আন নিসা 124] যে লোক পুরুষ হোক কিংবা নারী, সৎকর্ম করে এবং বিশ্বাসী হয়, তবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রাপ্য তিল পরিমাণও নষ্ট হবে না।

এখানে আমি বলছি না যে নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদির দরকার নেই। আমি এখানে বলছি বেহেস্তে যাওয়ার নুন্যতম যোগ্যতা যা আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল স্পস্টভাবে ঘোষনা করছেন।

যেমন, আমি ঠিকমত নামাজ পড়ি না কিন্তু আমি আল্লাহর সন্তুস্টি লাভের আশায় দৃড়ভাবে  ঘোষনা করছি “লা ইলাহা ইল্লল্লাহ” কাজেই আমি অবশ্যই একজন মুসলমান। আমি জ্ঞানত কক্ষনোও কোন আদম সন্তানের (সে মুসলমান হোক বা অমুসলমান) কোন ক্ষতি করি না। কারোর জন্য কোন বেঈনসাপী কাজ করি না। ধোকাবাজী, প্রতারনা, ঘুষ ইত্যাদি সম্পুর্নভাবে বর্জন করে চলি।

আমি আমার সাধ্যমত চেস্টা করি মানুষ বা মানব সমাজের জন্য উপকার এবং কল্যানকর কাজ করতে। গরিব মানুষকে সাধ্যমত আর্থিক সাহায্যও করে থাকি। কাজেই মহান আল্লাহ আমাকে অবশ্যই বেহেশত দিবেন এই দৃড় বিশ্বাস আমার আছে কারন আমি জানি আল্লাহ ওয়াদা রক্ষা করেন এবং আমাকে ভালবাসেন এবং আমিও আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসি।

এবার আসি নাস্তিক মুরতাদদের প্রসংগেঃ মহান আল্লাহ যদি চাইতেন তাহলে এই পৃথিবীতে একজনও নাস্তিক-মুরতাদ থাকত না।

[10 সূরা ইউনুস 99] আর তোমার পরওয়ারদেগার যদি চাইতেন, তবে পৃথিবীর বুকে যত মানুষ রয়েছে, তাদের সবাই ঈমান নিয়ে আসত সমবেতভাবে। তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য? 

মহান আল্লাহ যদি চাইতেন তাহলে এই পৃথিবীতে একজনও মুশরেক থাকত না।

[6সূরা আল্ আন-আম 107] যদি আল্লাহ চাইতেন তবে তারা (মুশরিকরা) শেরক করত না। আমি তোমাকে তাদের সংরক্ষক করিনি এবং তুমি তাদের কার্যনির্বাহী নও।

ধর্মের ব্যাপারে বিচার করার এখতিয়ার শুধুমাত্র আল্লাহ তালার।

[2সূরা আল্ বাকারাহ্ 256] দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই ।…

[109 সূরা কাফিরুন 6] তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্যে এবং আমার ধর্ম আমার জন্যে। 

কাজেই ধর্মের ভিত্তিতে ভিন্ন মতাবলম্বীদের (নাস্তিক, মুরতাদ, সুফি, মিস্টিক, কুরানিস্ট ইত্যাদি) যারা হত্যা করছে তারা আল্লাহর আরশ দখল করার ব্যর্থ চেস্টা করছে (শিরক করছে)।

তাই জংগি ভাইদের (যেমন, জেএমবি, আইএস, তালেবান, আল-কায়েদা, বোকোহারাম ইত্যাদির) প্রতি আমার আকুল আবেদন, আপনারা জংগিবাদ এবং চরমপন্থা তথা ইয়াজিদী ইসলাম পরিত্যাগ করুন। শান্তি এবং ক্ষমার ধর্ম প্রকৃত ইসলামে দাখিল হোন। আপনাদের কর্মকান্ডের জন্য সারা পৃথিবীর শান্তিকামী মুসলমানদের লজ্জা এবং বিব্রতকর অবস্থায় ফেলবেন না।

মানুষকে পিছন দিক থেকে গোপনে সোচনীয় কাপুরুষের মত ছুরি মেরে আপনারা ইসলাম এবং মুসলমানদের কলংকিত করছেন আবার ধরা পড়লে নির্ঘাত ফাঁসির দড়িতে অসহায়ভাবে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ঝুলতে হবে।  যাহোক, মহান আল্লাহ আপনাদের এবং আমাকে মাফ করুন। ধন্যবাদ।

[39 সূরা আল-যুমার 53] হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ (কবিরা, সগীরা সহ সব গোনাহ) মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

[7 সূরা আল আরাফ 199] আর ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ে তোল, সহনসীলতার প্রসার ঘটাও এবং মূর্খ অবুঝদের থেকে দূরে সরে থাক।

কিছু প্রাসংগিক লিংকঃ

>> বইমেলার বাইরে হামলায় লেখক অভিজিৎ নিহত

>> জিম্মি জর্ডানি পাইলটকে পুড়িয়ে মেরেছেআইএস

>> খুলনায় পিতা-পুত্রকে জবাই করে হত্যা

>> ফারুকী হত্যা: খুনিরা চিহ্নিত হয়নি এখনও

>> ঢাকাতে একই বাড়িতে ৬ জনকে খুন

>> ৩২২ সুন্নিকে হত্যা করেছে আইএস

>> পাকিস্তানে সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে বর্বর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তালেবান জঙ্গিরা, যাতে নিহত হয়েছে ১৩২ স্কুলশিশু শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৪১ জন

বি.দ্রঃ এই ওয়েবসাইটে যে সব আর্টিকেল আছে তা বিভিন্ন সময়ে পাঠানো বিভিন্ন লেখকদের নিজস্ব মতামত প্রতিফলিত হয়েছে। ওসব মতামতের জন্য bangla.god-muslims.com কতৃপক্ষ কোনভাবেই দায়ী নয়।

23-07-16. Copyright © https://bangla.god-muslims.com/

 


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।