আল্লাহ, নবী-রাসুল, ফেরেশতা, মানুষ এবং সারা জাহান এবং অন্যান্য গুরুত্বপুর্ন বিষয়ে আলোচনা এবং গবেষনা।


মদ কি সত্যিই হারাম?


অনেক মুল্লা ভাইদের কাছে এ ধরনের প্রশ্ন করাটাও তারা বেয়াদবী ভাববেন! যাহোক আমার লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, মুল্লা ভায়েরা যদি একটু আধটু নাখোশ হন তবে আমি কি করতে পারি! পবিত্র কুরআনে আছে বেহেস্তে মদের নদী থাকবে রীতিমত [দেখুন, 47 সূরা মুহাম্মদ আয়াত 15] ।

কাজেই মদ মুসলমানদের জন্য হারাম হয় কি করে? দেখুন নবী ইউসুফের সময় সেই রাজার মদ পরিবেশক ছিল। মহান আল্লাহ কিন্তু এখানে মোটেই ওই রাজাকে ভৎসনা করে বলছেন না যে “বেটা আবার মদও পান করে।” কাজেই এখানেও মদের ব্যপারে নেতিবাচক কিছু বলা হচ্ছে না [দেখুন, 12 সূরা ইউসূফ আয়াত 41] ।

পবিত্র কুরআনের অন্যত্র মদ খেয়ে মাতাল অবস্থায় নামাজে যেতে নিষেধ করা হয়েছে যা খুবই যৌক্তিক বিষয় [দেখুন, 4 সূরা আন নিসা আয়াত 43]। আসলে মদ খেয়ে মাতাল কোন অবস্থাতেই হওয়া যাবে না কারন তা আপনার স্বাস্থ্যর জন্য যেমন ভয়ানক ক্ষতিকর তেমনি পুলিশের লাঠিপেটা সহ বেখেয়ালে আপনি একটা বিপদজনক কাজ করে বসতে পারেন। কাজেই অল্প সল্প মদ খাওয়াটাই একমাত্র নিরাপদ যাতে মাতাল হওয়ার কোন চান্স না থাকে।

মাতাল হওয়াটা সত্যিই ভয়ংকর ব্যাপার। কিছুদিন আগে খবরে দেখলাম চীনে এক যুবক মাতাল অবস্থায় একটি শিশুকে আছাড় মেরে আহত করে এবং বেশ কিছুদিন পরে সেই শিশুটি সেই আঘাতের কারনে হাসপাতালে মারা যায়। চীনের আদালত উক্ত যুবককে মৃত্যুদন্ড দেয়। পরে সে আপিল করে যে, সে মাতাল অবস্থায় সেই ভয়ংকর ঘটনা ঘটিয়েছিল কিন্তু তার সেই আপিলে কোন কাজ হয়নি, তার  মৃত্যুদন্ড চীন অলরেডি কার্যকর করেছে।

প্রত্যেকটা বস্তুরই ইতিবাচক এবং নেতিবাচক গুন থাকে। যেমন আগুন ছাড়া আপনার একদিনও চলবে না আবার সেই আগুনের যদি অপব্যবহার হয় তাহলে কি ভয়ংকর ব্যাপার ঘটতে পারা তা আমাদের সবারই জানা।

আধুনিক গবেষনায় দেখা গেছে অল্প মদ পান আপনাকে হার্ট এট্যাক থেকে অনেকাংশেই রক্ষা করতে পারে। গবেষনায় আরো দেখা গেছে  অল্প মদ পান আপনার বুদ্ধিশক্তি ও চিন্তাশক্তিকে শানিত করতেও অনেকাংশে সাহায্য করে।

তবে সাবধান বেশি মদ পানের ধারের কাছেও যাবেন নাঃ আপনার স্বাস্থ্যের সর্বনাশ ঘটবে, আরো অনেক অনেক সর্বনাশ ঘটতে পারে আপনার জীবনে। মাতাল হওয়া মানে মানুষ হিসাবে আপনার ভাল-মন্দ চিন্তা করার ক্ষমতা রহিত হওয়া তাহলে সেই অবস্থাই আপনার আর পশুর মধ্যে পার্থক্য কি থাকবে?! কাজেই আবারও বলি খুব সাবধান এ ব্যাপারে। সবাইকে ধন্যবাদ।

এ ব্যাপারে আর কিছু টিপসঃ

কথায় আছে প্রতিদিন এক গ্লাস মদ পান ডাক্তারের কাছে যাওয়া থেকে আপনাকে রক্ষা করবে! জানিনা এই প্রবাদ কতটা সত্য। তবে অতিরিক্ত এলকোহল সেবনের ফলে একজন সুস্থ মানুষও হৃদপিণ্ড, যকৃত, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।যদি এক গ্লাস মদ পান করেন তাহলেও তা করবেন খাবার খাওয়ার সময় যেমন লান্স বা ডিনারের সময়। অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনের ফলে আপনি স্থুল বা মোটা হয়ে যেতে পারেন যে অবস্থায় বহু রোগ আপনার দেহে বাসা বাধতে পারে! মেয়েদের গর্ভবতী অবস্থায় মদপান মারাত্বক ঝুকিপুর্ন।

এলকোহল সেবনে মেয়েদের স্তন ক্যান্সারের ঝুকি বাড়ায়। পরিমিত মদ পান বলতে বোঝায় দিনে সর্বচ্চ এক থেকে দুই গ্লাস যার উর্ধে কক্ষনও, কোন অবস্থাতেই যাবেন না। মদ বা এলকোহল শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন;  কমপক্ষে আপনার বয়স ১৮ বা তার উর্ধে না হলে কক্ষনও মদপানের ধারের কাছেও যাবেন না। মনে রাখবেন মদ কোন সাধারন পানীয় না।

Copyright © https://bangla.god-muslims.com/

 


2 Brilliant Comments - Join Discussion Now!

  1. হাবিব says:

    তুই তো একটা শয়তান।কুরআন এবং হাদিসে অসংখ্য জায়গায় স্পষ্ট ভাষায় মদ হারাম করা হয়েছে।মায়েদা-90 সেদিক তোর চোখ যায়না? তুই কোনো নাস্তিক।মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার জন্য তুই এমন অপচেষ্টা করছিস।

  2. sohel says:

    কুরআনে মদ হারাম এমন কথা একবারও বলা হয়নি। মদ খেয়ে মাতাল অবস্থায় নামাজে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। অল্প লাল মদ পান হ্রদ রোগ সহ অনেক রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। তাহলে মদ ঢালাওভাবে হারাম হয় কি করে? আর মি. হাবিব ভাষাটা ভদ্র এবং মুসলমানের মত হলে ভাল হয় না?!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।