আল্লাহ, নবী-রাসুল, ফেরেশতা, মানুষ এবং সারা জাহান এবং অন্যান্য গুরুত্বপুর্ন বিষয়ে আলোচনা এবং গবেষনা।


ইলমে তাসাওউফ অর্জন করা জরুরি


শরীআত, তরীকত, হাকীকত ও মা‘রিফাতের সমম্বয়ে বিন্যাসিত হয়েছে ইলমে তাসাওউফ। মূলত এটা সমস্ত ইলমের আকর। ইলমে তাসাওউফ এক অনন্য আধ্যাত্মিক বিজ্ঞান। এই বিজ্ঞান অর্জন না করলে আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জন করা যায় না, মানবিক মূল্যবোধের চূড়ান্ত গুণাবলী অর্জন করা সম্ভব হয় না। যারা ইলমে তাসওউফকে স্বীকার করে না তাদেরকে ইমাম মালিক রহমানুল্লাহি আলায়াহি ফাসিক বলেছেন। তিনি বলেছেন:মান তাফাককাহা ওয়ালামইয়া তাসাওউফ ফাকাদ তাফাসসাকা। ইলমে তাসাওউফ অর্জন করতে হলে কামিল পীরের মুরীদ হতে হয়।

কামিল পীরের নিকট থেকে তা‘লীম ব্যতিরেকে এই ইলম আয়ত্ত করা যায় না। এই বিজ্ঞান মানবদেহে লুক্কায়িত বিভিন্ন সূক্ষাতিসূক্ষ (লতীফা) মকামগুলো বিশেষ পদ্ধতি (তরীকা) প্রয়োগের মাধ্যমে পরিষ্কার (সাফ) করে দেয়, ফলে সেগুলো নূরে নূরানী হয়ে নিষ্কলুষ উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত হয়ে যায়। এই আলোকিত মানুষরাই সূফি। এরাই আল্লাহর ওলী। এদের সম্পর্কে আল্লাহ জাল্লাশানুহু ইরশাদ করেছেন:জেনে রাখ, নিশ্চয়ই আল্লাহর ওলীগণের কোনো ভয় নেই এবং তাঁরা দুঃখিতও হবে না (সূরা ইউনুস:আয়াত ৬২)।

তাসাওউফ বিজ্ঞানের উম্মেষ ঘটে সেদিন যেদিন আল্লাহ জাল্লাশানুহু নিজেকে প্রকাশ করলেন নূরে মুহাম্মদী সৃষ্টি করার মাধ্যমে। নূরে মুহম্মদী সৃষ্টির মধ্য দিয়ে আল্লাহ বিশ্বজগত্ সৃষ্টির শুভ সূচনা করেন। আধুনিক বিজ্ঞানের বিগ ব্যাংক থিওরী যত পর্যালোচনা ও গবেষণা করা যাবে তত নূরে মুহাম্মাদীর তাত্পর্য উদ্ভাসিত হবে এবং ইলমে তাসাওউফ অর্জনের গুরুত্ব বোঝা যাবে।

ইলমে তাসাওউফ অনুশীলনকারী জ্ঞানের গভীর থেকে গভীরে ঢুকে সত্যকে প্রত্যক্ষ করেন, যার ফলে তাঁর দর্শন বা দেখাটা বাস্তব দেখা হয়। সাধারণ দর্শন যুক্তির মাধ্যমে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যা প্রদান করে, সেখানে একজন সূফি চাক্ষুস দর্শনের অভিজ্ঞতায় সত্যকে ব্যক্ত করেন। কুরআন মজীদে তাযকীয়ায়ে নফসের গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে এবং হাদীস শরীফে ইহসানের কথা বলা হয়েছে। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:আন তা‘বুদাল্লাহা কা আন্নাকা তারাহু ফা উনলাম তাকুন তারাহু ফাইন্নাহু ইয়ারাক-আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবে যে, তুমি আল্লাহকে দেখছ, যদিও তুমি তাঁকে না দেখ তিনিতো তোমাকে দেখছেন।

একাগ্রচিত্তে ইবাদত করতে হলে রিপুসমূহকে দমিত করতে হবে। ইলমে তাসাওউফের বেশ কয়েকটি তরীকা রয়েছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:কাদিরীয়া, চিশতীয়া, নকশবন্দীয়া, মুজাদ্দেদীয়া ইত্যাদি। ইলমে তাসাওউক অর্জন করতে হলে যোগ্য ও কামিল পীরের নিকট মুরীদ হয়ে তা‘লীম তালকীন ফয়েস-তাওয়াজ্জুহ গ্রহণ করতে হয়।

মানুষের দেহের যে দশটি লতীফা রয়েছে তা নির্ণয় করেছে ইলমে তাসাওউফ, সেগুলো হচ্ছে কলব, রুহ, সিরর, খিকী, আখকা আব, আতশ, খাক, বাদ। এই লতীফাগুলোর প্রত্যেকটির অবস্থান দেহের অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট স্থানে রয়েছে। ওগুলোকে জ্যোতির্ময় করার উপায় ইলমে তাসাওউফে রয়েছে। তাসাওউফবিহীন জীবন হচ্ছে সাগরের তলদেশে পড়ে থাকা পাথরের নুড়ির মতো কিংবা খুশবুবিহীন ফুলের মতো।

অধ্যাপক হাসান আবদুল কাইয়ুম

 


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।