আল্লাহ, নবী-রাসুল, ফেরেশতা, মানুষ এবং সারা জাহান এবং অন্যান্য গুরুত্বপুর্ন বিষয়ে আলোচনা এবং গবেষনা।


নামাজ কি তিন ওয়াক্ত, না দুই, না পাঁচ ওয়াক্ত?


যদিও সুন্নী মুসলমানরা নামাজ বা সালাত পাঁচ ওয়াক্ত পড়ে থাকেন কিন্তু অনেক কুরআন বিশারদগনই একে ভুল বলে মনে করেন। অনেকের খুব শক্ত যুক্তি আছে যে কুরআনে কোথাও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার কথা বলা হয়নি। এমনকি কুরআনে কোথাও নামাজ পড়তে বলা হয়নি, বলা হয়েছে নামাজ প্রতিস্টা করতে। পড়া আর প্রতিস্টা করা কি এক জিনিস? যেমন একটি বিদ্যালয় প্রতিস্টা করা যায়, বিদ্যালয় পড়া যায় না। তাহলে পড়া আর প্রতিস্টা করা এক জিনিস না। যাহোক, যারা নামাজ তিন ওয়াক্ত মনে করেন তারা বলেন কুরআনের কোথাও পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের নাম নেই।

আল্লাহ কি পাচ ওয়াক্ত নামাজ দিলেন কিন্তু তিন ওয়াক্তের নাম দিলেন আর ভুলে গেলেন অন্য দুই ওয়াক্তের নামের কথা! তা কি হয়? কুরানে সালাতুল ফজর, সালাতুল উস্তা এবং সালাতুল এশা ছাড়া আর কোন সালাতের নাম পাওয়া যাবে না। তাই তিন ওয়াক্ত পড়াওয়ালাদের যুক্তি হল নামাজ তাহলে অবশ্যই তিন ওয়াক্ত, পাঁচ ওয়াক্ত নয়। তবে পাঁচ ওয়াক্ত পড়াওয়ালাদের যুক্তি হল, যদিও কুরআনে নামাজের নাম তিন ওয়াক্তই আছে, কিছু কু্রানিক শব্দ সুক্ষ বিশ্লেষন করলে নামাজ পাঁচ ওয়াক্ত হতে পারে।

কেঊ কেঊ আবার দুই ওয়াক্ত নামাজ কুরআনে খুজে পেয়েছেন এবং তারা বলেন ইসলামের সুচনা থেকেই নামাজ দুই ওয়াক্তই ছিল। তাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার কোন দরকার নেই। তাহলে নামাজ পাঁচ ওয়াক্ত পড়লে কি গুনাহ হবে? কুরআনিস্টদের মধ্যে এক গ্রুপ আছে যারা মনে করেন গুনাহ হবে কারন আল্লাহ যা ধর্মের আইন হিসাবে দেননি তা পালন করলে গুনাহ এমনকি শিরক হবে। অতিরিক্ত দুই ওয়াক্ত পড়া মানে সময় নস্ট; আলাহ তো আমাদের এই পৃথিবীতে অনেক কাজের জন্য পাঠিয়েছেন, মসজিদ বা বাড়িতে বসে শুধু আল্লাহ, আল্লাহ জিকর করার জন্য পাঠাননি।

কাজেই সময় নস্ট গুনাহের কাজ। তবে কুরানিস্টদের মধ্যেও আবার অনেক গ্রুপই পাঁচ ওয়াক্তের প্রবক্তা। তবে এ নিয়ে মারামারী বা কাউকে কাফের বলা আমরা সমর্থন করি না কারন আল্লাহ বলেছেন, “ধর্মের ব্যাপারে কোন  জবরদোস্তি নেই।“ ধন্যবাদ।

 


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।