আল্লাহ, নবী-রাসুল, ফেরেশতা, মানুষ এবং সারা জাহান এবং অন্যান্য গুরুত্বপুর্ন বিষয়ে আলোচনা এবং গবেষনা।


প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন, টর্নেডো, ভুমিকম্প, সুনামী, রোগবালাই ইত্যাদি কি আল্লাহর গজব না আমাদের কর্মফল?


আল্লাহ, ঈশ্বর বা গডে  বিশ্বাসীদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে যে ভয়ানক ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, সুনামি, ভূমিকম্প, বন্যা, খরা, দুর্ভিক্ষ ইত্যাদি আল্লাহর কাজ। আল্লাহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাধ্যমে পাপী মানুষকে শাস্তি দেন! কিন্তু কুরআন বলছে, পৃথিবীর মানুষের পৃথিবীকে অব্যবহার ও অপব্যবহারের কারণে বেশিরভাগ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটছে।

[কুরআন 30:41] মানুষের কৃতকর্মের কারণে স্থলে ও সমুদ্রে দুর্যোগ ছড়িয়ে পড়েছে এভাবে তিনি তাদের কিছু কাজের ফলাফলের স্বাদ গ্রহণ করতে দেন, যাতে তারা ফিরে আসে

এই আধুনিক যুগে, আয়াত [30:41] সহজেই এবং গভীরভাবে বোঝা যায়। উদাহরণস্বরূপ, আমরা জীবাশ্ম জ্বালানী (তেল, গ্যাস, কয়লা ইত্যাদি) অত্যধিক খরচ করছি যা প্রচুর পরিমাণে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন করে যা বৈশ্বিক জলবায়ুকে বিপর্যস্ত করছে। আমাদের অনেক অনেক উন্নতি ও বিলাসিতা দরকার!

আমরা আমাদের দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করছি না; অধিকতর জনসংখ্যা মানে জীবাশ্ম জ্বালানির আরও ব্যবহার, ফলে দ্রুত গ্লোবাল ওয়ার্মিং। আমরা ইতিমধ্যে জলবায়ুর কুৎসিত পরিবর্তন এবং বিশ্বের বিভিন্ন অংশে তার বিধ্বংসী প্রভাব দেখতে পাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে অবস্থা আর অনেক খারাপ হবে।

জলবায়ু অনির্দেশ্য এবং সহিংস হয়ে উঠেছে, পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি অব্যহত, সুমুদ্রের পানির স্তরের ক্রমাগত বৃদ্ধি, মাটির নিচে পানির স্তর বিপদজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়া এবং পৃথিবীর কিছু জায়গায় কদর্য বন্যা আরও সাধারণ হয়ে ওঠেছে।

সমাধানটি সুস্পষ্ট: কুরআন বলছে, আমাদের অবশ্যই ফিরে আসতে হবে অথবা ফলাফলের মুখোমুখি হতে হবে! আমাদের বিশ্ব জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং আমাদের কার্যকরভাবে কার্বন নির্গমন নিয়ন্ত্রন করতে হবে। নাহলে আমাদের এই গ্রহটি আমাদের বসবাসের জন্য আরও বেশি কঠিন ও মারাত্বক হবে এবং আমরা প্রায়শঃ বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ট্রাজেডির সম্মুখীন হব।

1500 বছর আগে পরম দয়ালু আল্লাহ বিশ্বকে রক্ষা করার জন্য এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য মানবতাকে সতর্ক করেছিলেন; অন্যথায় আমাদের বিধ্বংসী পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। তাই এটা স্পস্ট করুণাময় আল্লাহ আমাদেরকে শাস্তি দিচ্ছেন না কিন্তু অজ্ঞতা, বাড়াবাড়ি ও স্বার্থপরতার কারণে আমরা নিজেরাই নিজেদেরকে শাস্তি দিচ্ছি। ধন্যবাদ। মহান আল্লাহ আপনাকে রহমত করুন এই কামনায়।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।