আল্লাহ, নবী-রাসুল, ফেরেশতা, মানুষ এবং সারা জাহান এবং অন্যান্য গুরুত্বপুর্ন বিষয়ে আলোচনা এবং গবেষনা।


পাঁচ ওয়াক্ত সালাত কায়েম করার কথা কুরআনে উল্লেখ নেই


দিনে বা রাতের যে কোনো সময় সালাত আদায় করা যাবে। এজন্য আল্লাহ বলেন, সালাতী কার্যক্রমটা সার্বক্ষণিক সুরা মাআরিজ, ৭০ঃ২৩ । দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টার ভিতরে প্রথম ১২ ঘণ্টা সময়সীমার মধ্যে সালাত কায়েম করাকে ফরজ করা হয়েছে, বাকী ১২ ঘণ্টা সময়সীমার মধ্যে সালাত আদায় করাকে তাজ্জত করা হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে আল্লাহ বলেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সালাত আদায় করা মুমিনদের উপর লিখিত করা হয়েছে সুরা নিসা ৪ঃ১০৩। এই আয়াতে মাউকুতা শব্দ এসেছে। মাউকুতা শব্দের অর্থ নির্ধারিত সময়সীমা। (আরবি অভিধান পৃ. ২৩১৮)। এখানে নির্ধারিত সময়সীমা বলতে ১ম ১২ ঘণ্টাকে বুঝানো হয়েছে। তবে এখন আমাদের জানতে হবে, ১ম বার ঘণ্টার শুরুটা কখন থেকে হবে। এই মর্মে আল্লাহ বলেন, সূর্য হেলে পড়ার পর হতে রাতের ঘন অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম কর সুরা বনি ইসরাইল,১৭ঃ৭৮।

অর্থাৎ দুপুর ১২ টার পর হতে রাত ১২টা পর্যন্ত সময়সীমাটা সালাত কায়েমের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা। এই মর্মে আল্লাহ বলেন, তোমরা সালাত কায়েম কর দিনের শেষাংশে এবং রাত্রের প্রথমাংশে সুরা হুদ ১১ঃ১১৪। এই আয়াতে তারাফাই শব্দ এসেছে। তারাফাই শব্দের অর্থ হচ্ছে শেষ সীমা (আরবি অভিধান পৃ. ১৬৬৯)। এই আয়াতে জুলাফাই শব্দ এসেছে, জুলুফাই শব্দ প্রথম অংশ (আরবি অভিধান পৃ. ১৪০৭)। এই সময়সীমার মধ্যে সালাত আদায় করাকে মধ্যবর্তী সালাত বলে। এই মর্মে আল্লাহ বলেন, তোমরা মধ্যবর্তী সালাতকে রক্ষা কর সুরা বাকারা, ২ঃ২৩৮। এই দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা সময়সীমার মধ্যে একবার সালাতকে রক্ষা করা তেমন একটা কঠিন কাজ নয়, এইজন্য আল্লাহ বলেন, দ্বীনের বিষয়ে আল্লাহ কাহারো উপর কঠোরতা আরোপ করেননা , বা সাধ্যের অতিরিক্ত কারো উপরে চাপিয়ে দেননা সুরা হজ্জ, ২২ঃ৭৮। এখানে উল্লেখ্য যে, অনেকে বলেন ফজরের সালাতটা ফরজ কাজ। কিন্তু না, কারণ সূর্য হেলে পড়ার পর হতে রাতের ঘন অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম কর। কিন্তু ফজরের সালাতটা এই সময়সীমার ভিতরে পড়েনা, বিধায় ফজরের সালাত ফরয হলে বনি ইসরাইলের ১৭ঃ৭৮ আয়াতের পরিপন্থী হয়।

কিন্তু যদি কোনো বুঝ কোনো আয়াতের পরিপন্থি হয় তাহলে সেই বুঝ পরিহার করা উচিত। তাছাড়া সুরা বনি ইসরাইলের ১৭ঃ৭৮ আয়াতে কুরআনাল ফাজরে বা ফজরের কুরআন শব্দ আছে। যেটি দ্বারা ফজরের সালাত বুঝানো হয়, কিন্তু না, ফজরের সালাত, আর ফজরের কুরআন এক নয়। তাই ফজরের সালাতটা কোনো অবস্থায়ই ফরয নয় এটা সালাতে তাজ্জত সুরা বনি ইসরাইল, ১৭ঃ৭৮ । কারণ ফজরের সময়টা যদি দিনের অংশের সাথে গণ্য করা হয় তাহলে এটা হয় দিনের প্রথমাংশ, দিনের প্রথমাংশের সালাত তাজ্জতের পর্যায়ভুক্ত সুরা বনি ইসরাইল, ১৭ঃ৭৮। আবার যদি ফজরটা রাতের অংশের সাথে ধরি তাহলে ফজরটা রাতের শেষাংশে পড়ে, আর রাতের শেষাংশের সালাতটা হচ্ছে তাজ্জতের সালাত সুরা বনি ইসরাইল, ১৭ঃ৭৮। প্রাচীন কাল থেকে মানুষ ফজরের সালাতকে তাজ্জতের সালাত হিসেবে আদায় করে আসছে, তাই আরবি ভাষার সময়ের তালিকায় ফজরের সালাতের সময় নামে একটি সময়ের উল্লেখ পাওয়া যায়, এই মর্মে আল্লাহ বলেন, তোমরা ফজরের সালাতের পূর্বে কারো ঘরে প্রবেশ করার পূর্বে অনুমতি প্রার্থনা করবে সুরা নূর, ২৪ঃ৫৮ । এই আয়াত দিয়ে অনেকেই ফজরের সালাতকে ফরজ প্রমাণ করে, কিন্তু না, এই আয়াতে ফজরের সালাত কায়েম কর নির্দেশ আসে নি। বিধায় ফজরের সালাতটা ফরজ নয় বরং এটা তাজ্জতের সালাত। তাছাড়া পবিত্র কুরআনে কোথাও ফজরের সালাত কায়েম কর মর্মে কোনো আয়াত আসে নি কিংবা সকাল সন্ধ্যায় সালাত কায়েম কর এই মর্মেও কোনো আয়াত আসে নি।

কাজেই সালাতের সময়সীমা বলতে দিনের শেষাংশ এবং রাতের ১ম অংশ, অর্থাৎ দুপুর ১২টার পর হতে রাত্র ১২ টা পর্যন্ত এই সময়সীমার মধ্যে কয়বার সালাত কায়েম করতে হবে মর্মে কোনো সংখ্যা উল্লেখ নেই বিধায়, এই সময়সীমার মধ্যে কমপক্ষে একবার সালাত কায়েম করা ফরয এটাই প্রমাণ হয়। অর্থাৎ রাত্র ১২টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাজ্জত সালাতের সময়। কাজেই পাঁচ ওয়াক্ত সালাত কায়েম করা মর্মে পবিত্র কুরআনে কোনো আয়াত আসে নি। তারপরও যদি কেউ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে তাতে কোনো দোষ নেই। তবে দ্বীনের বিষয়ে আল্লাহ কারো উপর সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না সুরা মুমিনুন ২৩ঃ৬২, এবং সুরা আরাফ ৭ঃ৪২ । আর দ্বীনকে সহজ করার জন্য আল্লাহ দ্বীনে পাঁচবার আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করতে বলেছেন সূরা ত্বোহা ২০ঃ১৩০।এখানে উল্লেখ্য যে, এই আয়াত দিয়ে অনেকেই পাঁচ ওয়াক্ত সালাত প্রমাণ করে থাকেন। তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, সূরা ত্বোহার ২০ঃ১৩০ নং আয়াতে সালাত শব্দ আসেনি।

এই আয়াতে এসেছে সুবহানাল্লাহ ওয়া বিহামদিহি। আর এটা করতে তাহির হওয়া ফরয নয়। আর এর জন্য সিজদাও জরুরি নয়। অথচ সালাতের পূর্বে তাহির হওয়া ফরজ সূরা মায়েদা ৫ঃ৬ এবং সালাতে সিজদা ফরজ সূরা নিসা ৪ঃ ১০২। আল্লাহ বলেন, তোমরা মানুষকে প্রভুর পথে আহ্বান কর হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা। এবং তাদের সহিত তর্ক কর উত্তম পন্থায় সুরা নহল, ১৬ঃ১২৫। আর হিকমতের এই শিক্ষাই হচ্ছে রসূলের কাছে সুরা বাকারা ২ঃ১৫১ । কাজেই রসূল চেহারায় সিজদা কায়েম করাই হচ্ছে সালাত কায়েম করা।সাল্লুন। ধাতু হতে সালাত। সালাত অর্থ দহন, পোড়ানো, তেড়া বেঁকা সোজা করা, স্রষ্টার সংগে সৃষ্টির সংযোগ ক্রিয়া,স্রষ্টাকে স্মরন, উঠে বসে হেলে দুলে কিছু সংখ্যক কালাম পাঠ করে প্রভুর কাছে
প্রার্থনা করা।

মোঃ নজরুল ইসলাম। ০১–০৭–২০২০ খ্রীঃ।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।