আল্লাহ, নবী-রাসুল, ফেরেশতা, মানুষ এবং সারা জাহান এবং অন্যান্য গুরুত্বপুর্ন বিষয়ে আলোচনা এবং গবেষনা।


মুসলমানদের অধঃপতনের মুল কারন ও তার প্রতিকার


অধিকাংশ মুসলমান বুঝেছে যে নামাজ পড়া খুব জরুরী কিন্তু কুরআনে নামাজ পড়ার কথা কোথাও বলাই হয়নি। বলা হয়েছে সালাত প্রতিস্টা করতে। কোন জিনিস পড়া আর প্রতিস্টা করা কক্ষনও এক বিষয় না। প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে, নামাজ পড়ার জন্য প্রস্ততি নিতে যেয়ে অনেক সময় নস্ট হয় ফলে গুরুত্বপুর্ন কাজ করার খুব একটা সময় মুসলমানরা পায় না। এ কারনে সারা পৃথিবীব্যাপি মুসলমানরা অন্য ধর্মের লোকদের তুলনায় মারাত্বকভাবে পিছিয়ে পড়েছে বিশেষকরে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা আর অগ্রগতিতে।

প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার প্রচলন নিঃশ্চয়ই মুসলমানদের বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্র তাতে আমার কোন সন্দেহ নেই। আল্লাহ আমাদের সৃস্টি করেছেন বলেই তাঁকে দিনে অতবার রুকু-সেজদা করতে হবে কেন? আল্লাহ আমাদের ওত রুকু-সেজদা খান না গায়ে মাখেন?! একটু ভাবুন তো ভাই!

এবার আসুন সালাত প্রতিস্টা করার ব্যাপারে দু’একটি কথা বলি। কুরআন থেকেই কিছু রেফারেন্স দিই এ ব্যাপারে, কি বলেন।

[২৯ সূরা আল আনকাবুত ৪৫] সালাত প্রতিস্টা সব অন্যায় ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে।

অর্থাৎ যে সব অন্যায় ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকে তার সালাত প্রতিস্টা এমনিতেই হয়ে যায়। সালাত প্রতিস্টার মুল উদ্যেশই হল মানুষকে সব অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখা। পশ্চিম দিকে মুখ করে রুকু-সেজদা দেওয়ার কি দরকার আর তা আল্লাহরই বা কি প্রয়োজন।

[2 সূরা আল বাক্বারাহ ১৭৭] আনুস্টানিক এবাদতকে কোন সৎকর্ম হিসাবেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, যেমন পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে মুখ করা কোন পুন্যের কাজ না যেমনটি নামাজে করা হয়। পুন্যের কাজ হল অসহায় মানুষকে সাহায্য করা, ওয়াদা রক্ষা করা, অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণ করা ইত্যাদি।

সূরা মাউনে(১০৭ নং সুরা) আবারো  সূরা বাক্বারার ১৭৭ আয়াতেরই প্রতিধ্বনি করা হয়েছে এবং যারা ভাল ভাল কাজ তথা সৎকাজ না করে নামাজ পড়ে তাদের ধ্বংশের সংবাদ দেওয়া হয়েছে। বোঝা যায় আল্লাহ ভন্ড নামাজ পড়ুয়াদের ব্যাপারে কতটা বিরক্ত। বর্তমান মুসলিম সমাজে যারা নামাজ পড়ে তাদের অধিকাংশই ভন্ড নামাজ পড়ুয়া।

একটু ভাবুন আপনার রুকু-সেজদার আল্লাহর কোন্‌ প্রয়োজন আছে? কিন্তু এই দুনিয়াতে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসাবে আপনার ভাল ভাল কাজ আল্লাহর প্রয়োজন আছে কারন আল্লাহ আকাশ থেকে সরাসরী নেমে এসে এই পৃথিবীতে কোন কাজ সম্পাদন করেন না।

আল্লাহ এই পৃথিবীতে কাজ সম্পাদন করেন তাঁর প্রতিনিধিদের মাধ্যমে। জীবনে দুটি বিষয় অতি গুরুত্বপুর্নঃ সৃস্টিকর্তাকে বিশ্বাস করা এবং এর পরেই আসে সৎকাজ করতে থাকা। নামাজ পড়া, রোজা রাখা ইত্যাদির কথা এখানে বলাই হয়নি আর এ ধরনের আয়াত অসংখবার এসেছে কুরআনে।

[2 সূরা আল বাক্বারাহ ৮২] যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে।

তাই আসুন মেশিনের মত আল্লাহর প্রতি দিনে ৫ বার রুকু-সেজদা না দিয়ে বরং সৎ জীবনযাপন করি এবং মানুষের কল্যানে কাজ করি। তাহলেই আল্লাহ আমাদের প্রতি খুশি থাকবেন। এভাবেই মুসলমানরা পৃথিবীব্যাপি অধঃপতনের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।