আল্লাহ, নবী-রাসুল, ফেরেশতা, মানুষ এবং সারা জাহান এবং অন্যান্য গুরুত্বপুর্ন বিষয়ে আলোচনা এবং গবেষনা।


রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য দ্বায়ী কে, রাশিয়া না ইউক্রেন না আমেরিকা ও ন্যাটো?


আমার খুব ভালভাবেই মনে আছে রাশিয়া বার বার বলেছে ন্যাটো যেন সম্প্রসারিত হতে হতে রাশিয়ার খুব কাছে চলে না আসে। কিন্তু কে শোনে কার কথা! সোভিয়েট ইউনিয়ন ভাংগার পর ওয়ারশ জোট যদি না থাকে তাহলে ন্যাটো জোট থাকবে কেন? সোভিয়েট ইউনিয়ন ভাংগার কারনে অনেকগুলি দেশ রাশিয়ার হাতছাড়া হয়ে যায় এটাই রাশিয়ার মত দেশের জন্য অসন্মানের। তারপর মরার উপর খাড়ার ঘা।

ওয়ারশ জোট ভাংলো আবার সোভিয়েট ইউনিয়নের দেশগুলো ন্যাটো জোটে যাবে তা কি করে হয়? সোভিয়েট ইউনিয়নের দেশগুলো স্বাধীনতা পেয়েছে এই অনেক। তারা কি করে রাশিয়ার শত্রু দেশের সাথে জোট বাধে? ঐসব দেশগুলোর এটাই ভাল হত যে তারা যেন রাশিয়ার সাথে ভাল সম্পর্ক রেখে চলে। রাশিয়া ইউক্রেনকে অনুরোধ করেছে যেন সে ন্যাটো জোটে না যায় কিন্তু ইউক্রেন তা অভদ্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল। এ ব্যাপারে রাশিয়া আমেরিকাও অনুরোধ করেছে কিন্ত সেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

তাহলে ইউক্রেন, আমেরিকা এবং ন্যাটো রাশিয়ার জন্য সম্মানের কোন্‌ পথ খোলা রেখেছে? ফলে রাশিয়াকে এই যুদ্ধের পথে যেতেই হল। এখন এই যুদ্ধের জন্য যত ঘটনা, জীবন ক্ষয়, অগকাঠামো ধ্বংশ হচ্ছে তার সবকিছুর জন্য ইউক্রেন, আমেরিকা এবং ন্যাটো দ্বায়ী। বলা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধ করছে রাশিয়া। এ ধরনের যুদ্ধে ঐ ধরনের অমানবিক ঘটনা অনিবার্‍্য ফলে ওসব যুদ্ধাপরাধের দায়ও ইউক্রেন, আমেরিকা এবং ন্যাটোকে নিতে হবে।

বিষয়টা যদিও রাশিয়া এবং ন্যাটো জোটের মধ্যে কিন্তু পুরা বিশ্ব আজ হুমকীর মুখে। পারমানবিক যুদ্ধের আশংকার ফলে গোটা মানব সভ্যতা আজ বিলুপ্তির হুমকিতে। আর অগনিত মানুষের জীবন যাচ্ছে প্রতিদিন, এই পৃথিবীর মুল্যবান সম্পদ ধংশ হচ্ছে। কে তার জন্য দ্বায়ী? আমি মনে করি এর জন্য দ্বায়ী আমেরিকা আর পশ্চিমাদের স্বার্থপর নীতি। এমনিতেই উন্নত দেশগুলো থেকে অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরনের ফলে এই পৃথিবীকে জলবায়ু বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দিয়েছে কিন্তু তার জন্য বেশি করে ভুগতে হচ্ছে অনুন্নত দেশের গরীব মানুষদের।

এখন তো আমার মনে হচ্ছে আমেরিকাসহ পশ্চিমারাই অসভ্য, বর্বর আর স্বার্থপর। এদের আসল চেহারা আমরা দেখতে পাচ্ছি! এরা শান্তির জন্য কাজ না করে গো্টা পৃথিবীকে এক ভয়াবহ সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এতে তাদেরও শেষ পর্যন্ত কোন লাভ ববে না। তারা যেন নিজেদের ধংশ নিজেরাই ডেকে আনছে। অসভ্য, বর্বর আর স্বার্থপর মানুষদের শেষ পরিনতি কোন দিন ভাল কিছু হয় না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ওরা বেশ উন্নত হয়েছে ঠিকই কিন্তু মানবিক গুনাবলীতে ওদের অবস্থা একেবারেই তলানিতে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।